হিট স্ট্রোক: লক্ষণ, কারণ এবং বাঁচার উপায়

হিট স্ট্রোক: লক্ষণ, কারণ এবং বাঁচার উপায়

By Alamgir kabir

হিট স্ট্রোক: লক্ষণ, কারণ এবং বাঁচার উপায়
তীব্র দাবদাহে যখন আমাদের শরীর আর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন যে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকেই  হিট স্ট্রোক বলা হয়। এটি কেবল একটি সাধারণ অসুস্থতা নয়, বরং সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

 


হিট স্ট্রোক কী?

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের শরীর ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু যখন বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে বা তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন শরীর আর নিজেকে শীতল রাখতে পারে না। শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৪° ফারেনহাইট (৪০° সেলসিয়াস) বা তার বেশি হয়ে যায়,  এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 


কেন এবং কীভাবে হয়?

হিট স্ট্রোক প্রধানত দুটি কারণে হতে পারে:

  1. তীব্র রোদে কাজ করা: দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে।
  2. অতিরিক্ত আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে ঘাম শুকায় না, ফলে শরীর শীতল হতে পারে না।
  3. শরীরে পানির অভাব: পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীর ঘাম তৈরি করতে পারে না, যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
  4. পোশাক ও পরিবেশ: অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা সিনথেটিক পোশাক পরা এবং ভ্যাপসা গরম ঘরে দীর্ঘক্ষণ থাকা।

 


কাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি? 
  • শিশু (শিশু এবং ছোট) এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা (>65 বছর),
  • যারা বিস্তৃত কার্যকলাপে নিযুক্ত থাকে বা দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের সংস্পর্শে থাকে,
  • নির্দিষ্ট হার্ট বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগী, এবং
  • রোগীদের ওষুধ যেমন BP ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ওভার-দ্য কাউন্টার কাশি এবং সর্দির ওষুধ। 

 

লক্ষণসমূহ

হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে শরীর কিছু সংকেত দেয়। এগুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

  • শরীরের তাপমাত্রা ১০৪° ফারেনহাইটের বেশি হওয়া।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং মাথা ঘোরা।
  • ত্বক লালচে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া (ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া)।
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস।
  • মানসিক বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।

 


প্রতিকার (Prevention)

প্রতিরোধই হলো হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচার সেরা উপায়:

  • পর্যাপ্ত পানি পান: তৃষ্ণা না পেলেও সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাব বা স্যালাইন পান করুন।
  • সঠিক পোশাক: হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরুন।
  • রোদ এড়িয়ে চলা: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
  • ক্যাফেইন বর্জন: চা, কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে দেয়।

Heat Stroke


চিকিৎসা ও করণীয় (Treatment)

যদি কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, তবে তৎক্ষণাৎ নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:

  1. ছায়াযুক্ত স্থানে নেওয়া: রোগীকে দ্রুত রোদ থেকে সরিয়ে শীতল বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নিয়ে যান।
  2. শরীর ঠান্ডা করা: রোগীর গায়ের কাপড় ঢিলে করে দিন। ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো শরীর মুছে দিন। সম্ভব হলে আইসপ্যাক বগল, ঘাড় এবং কুঁচকিতে দিন।
  3. বাতাস করা: ফ্যান ছেড়ে দিন বা হাতপাখা দিয়ে দ্রুত বাতাস করুন।
  4. পানি পান করানো: রোগী জ্ঞান না হারালে তাকে ধীরে ধীরে পানি বা ওরাল স্যালাইন পান করান। তবে অজ্ঞান অবস্থায় মুখে কিছু দেবেন না।
  5. হাসপাতালে নেওয়া: প্রাথমিক শুশ্রুষার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

সতর্কতা: হিট স্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। ঘরোয়া চিকিৎসা চলাকালীনই অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসকের সহায়তা নিশ্চিত করুন।

নিজে সচেতন থাকুন এবং অন্যদের সচেতন করুন। এই গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করার বিকল্প নেই!

 

 

Alamgir
Written by Alamgir kabir

A software developer experienced in C#, ASP.NET Core, SQL Server, and Azure, with knowledge of Angular and React. He enjoys learning new technologies and sharing practical knowledge through teaching and blogging.

Comments

Loading comments...