বজ্রপাতে  এক দশকে মৃত্যু  সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের !

বজ্রপাতে এক দশকে মৃত্যু সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের !

By Alamgir kabir

বজ্রপাতে এক দশকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

বজ্রপাত (বাংলায় “বজ্রপাত” বা lightning) প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিপজ্জনক ঘটনাগুলোর একটি। বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এর ঝুঁকি অনেক বেশি। 

বজ্রপাত কী? 
বজ্রপাত হলো আসলে মেঘের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি বিশাল আকারের বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা স্ফুলিঙ্গ। যখন বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে থাকা মেঘের মধ্যে ধনাত্মক (+) ও ঋণাত্মক (-) চার্জ বা আধানের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, তখন সেই বিদ্যুৎ শক্তি মাটির দিকে বা অন্য মেঘের দিকে ধাবিত হয়। এটিই আমরা বিজলি চমকানো বা বজ্রপাত হিসেবে দেখি।

বজ্রপাত কেন এবং কীভাবে হয়? 
১। ঘর্ষণ ও আধান তৈরি: ঝড়ের সময় মেঘের ভেতর থাকা জলকণা এবং বরফকণা একে অপরের সাথে প্রচণ্ড বেগে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে মেঘের উপরের অংশে পজিটিভ চার্জ এবং নিচের অংশে নেগেটিভ চার্জ জমা হয়।
২। আকর্ষণ: পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জ একে অপরকে আকর্ষণ করে। যখন এই চার্জের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, তখন বাতাসের বাধা ভেদ করে বিদ্যুৎ মেঘ থেকে মাটিতে (বা এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে) নেমে আসে।
৩। শব্দ কেন হয়: বজ্রপাতের ফলে চারপাশের বাতাস মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ২৭,০০০°C - ৩০,০০০°C পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়। এই প্রচণ্ড তাপমাত্রায় বাতাস হঠাৎ সম্প্রসারিত হয়, যা একটি বিকট শব্দের সৃষ্টি করে। একেই আমরা বজ্রধ্বনি বলি।

বজ্রপাতের সময় কেন আগে আলো দেখা যায় এবং পরে শব্দ শোনা যায়?
এর মূল কারণ হল আলো এবং শব্দের বেগের পার্থক্য। আলোর বেগ শব্দের বেগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
আমরা জানি আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে 300000 কিলোমিটার (প্রতি সেকেন্ডে 3 × 10 ^ 8 মিটার)। অন্যদিকে 0 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে 332 মিটার। গতির এই পার্থক্যের কারণে বজ্রপাতের শব্দ বিদ্যুৎ চমকানোর একটু পরে শোনা যায়।

বজ্রপাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় :
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিচে কিছু জরুরি পদক্ষেপ দেওয়া হলো:
ক. বজ্রপাতের সময় করণীয় :
১। দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান: মেঘের ডাক শোনার সাথে সাথে কোনো দালান বা পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিন। টিনের চালা বা আধাপাকা ঘর খুব একটা নিরাপদ নয়।
২। গাড়ির ভেতর থাকা: আপনি যদি গাড়িতে থাকেন, তবে জানালার কাঁচ তুলে দিয়ে ভেতরেই থাকুন। 
৩। উঁচু জায়গা থেকে দূরে থাকুন: পাহাড়ের চূড়া, খোলা মাঠ বা উঁচু কোনো টাওয়ারের নিচে দাঁড়াবেন না।
৪। পানির সংস্পর্শ ত্যাগ: পুকুর, নদী বা যেকোনো জলাশয় থেকে দ্রুত দূরে সরে আসুন। পানির ভেতর বিদ্যুৎ দ্রুত প্রবাহিত হয়।


খ. যা করবেন না :
১। গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না: বজ্রপাতের সময় কোনোভাবেই বড় গাছের নিচে দাঁড়াবেন না। লম্বা বস্তু বজ্রপাতকে বেশি আকর্ষণ করে।
২। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন: ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন—টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ বা কর্ডযুক্ত ফোন ব্যবহার করবেন না। এগুলোর প্লাগ খুলে রাখা সবচেয়ে ভালো।
৩। ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না: লোহার গ্রিল, ছাতা (ধাতব হাতলযুক্ত) বা বাইসাইকেল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
৪। খোলা মাঠে শুয়ে পড়বেন না: যদি এমন হয় যে আপনি খোলা মাঠে আছেন এবং আশেপাশে কোনো আশ্রয় নেই, তবে শুয়ে না পড়ে কানে হাত দিয়ে উবু হয়ে বসে পড়ুন ।

বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ  । সচেতন ও সতর্ক থাকলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষের জন্য এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

Alamgir
Written by Alamgir kabir

A software developer experienced in C#, ASP.NET Core, SQL Server, and Azure, with knowledge of Angular and React. He enjoys learning new technologies and sharing practical knowledge through teaching and blogging.

Comments

Loading comments...